ফরাসি দূতাবাসে বিবৃতি বিতর্ক: তিন বাংলাদেশি কর্মী বরখাস্ত


ঢাকা, বাংলাদেশ: ঢাকায় ফরাসি দূতাবাস তিনজন বাংলাদেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেছে, যারা সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ডের মন্তব্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া একটি বিবৃতি দূতাবাসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস বিভাগের এক কর্মকর্তা, যিনি একসময় আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-র ঢাকা ব্যুরো প্রধান ছিলেন, ফরাসি দূতাবাসের এক কর্মীকে প্রভাবিত করে বিবৃতিটি পোস্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেন।

ঘটনার পটভূমি

সম্প্রতি তুলসী গ্যাবার্ড বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন এবং ইসলামী সন্ত্রাসবাদের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাবার্ডের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যেখানে তার বক্তব্যকে "ভিত্তিহীন ও বাংলাদেশের সুনামের জন্য ক্ষতিকর" বলে উল্লেখ করা হয়। এই বিবৃতিটি ঢাকায় ফরাসি দূতাবাসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা হয়, যা পরবর্তীতে বিতর্কের সৃষ্টি করে।

ফরাসি দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া

বিবৃতি শেয়ারের পরপরই কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এক ভারতীয় সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা মনোজ রাওয়াত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফরাসি দূতাবাসের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

ফরাসি দূতাবাস এক বিবৃতিতে এই অভিযোগকে "ভিত্তিহীন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী" বলে আখ্যায়িত করে। তবে দূতাবাসের পক্ষ থেকে শেয়ার করা পোস্টটি পরবর্তীতে মুছে ফেলা হয়।

বাংলাদেশি কর্মীদের বরখাস্ত

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকায় ফরাসি দূতাবাস তিনজন বাংলাদেশি কর্মীকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। দূতাবাসের দাবি, তারা দূতাবাসের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য কূটনৈতিক মিশনগুলোর আরও সংবেদনশীল হওয়া জরুরি বলে তারা মনে করেন।

এদিকে, বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের বিষয়ে ফরাসি দূতাবাস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এ ঘটনার ফলে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url